হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে হলে প্রতিটি জাহাজকে ইরানের অনুমতি নিতে হবে, অন্যথায় তা ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি।

বুধবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, ওই দিনই ইরানের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা দুটি জাহাজকে হরমুজ প্রণালীতে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

তাংসিরি যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রতিশ্রুতিকে ‘ফাঁকা কথা’ বলে উল্লেখ করেন।

ফারসি ভাষায় দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে যাওয়ার আশ্বাস কি দেওয়া হয়েছিল? এই প্রশ্ন করা উচিত এক্সপ্রেস রোম ও মায়ুরি নারি জাহাজের নাবিকদের, যারা আজ ফাঁকা প্রতিশ্রুতিতে ভরসা করে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে প্রণালী পার হতে চেয়েছিল, কিন্তু ধরা পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে কোনো জাহাজকে এই প্রণালী পার হতে হলে ইরানের অনুমতি নিতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরও কঠোর করেছে ইরান। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রণালীটি এখনও খোলা আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে কাজ করে না—এমন জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ একসময় এই প্রণালী দিয়ে যেত। বর্তমান উত্তেজনার কারণে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের বৈশ্বিক দাম ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সংঘাত দীর্ঘ হলে এর প্রভাব ঐতিহাসিক মাত্রায় পৌঁছাতে পারে।

এদিকে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরের অন্যান্য বড় তেল রপ্তানিকারক দেশের সরবরাহ কমে গেলেও ইরান বরং হরমুজ প্রণালী দিয়ে আরও বেশি তেল পরিবহন করতে সক্ষম হয়েছে।

ট্যাঙ্কার ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২১ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল জাহাজে তোলা হচ্ছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ইরানের প্রতিদিন গড়ে ২০ লাখ ব্যারেল রপ্তানির তুলনায় বেশি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের উপকূল থেকে অন্তত সাতটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার তেল বোঝাই করেছে এবং এর মধ্যে অন্তত দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে নিরাপদে পারস্য উপসাগর ছেড়ে গেছে।